অনবরত বক্তব্য বদলাচ্ছেন নুর!

ডাকসু নির্বাচনে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর মঙ্গলবার অনবরত বদলেছেন তার বক্তব্য। এদিন তিনি চার রকম কথা বলেছেন। তার একেকবার একেক রকম কথায় সৃষ্টি হচ্ছে নাটকীয় পরিস্থিতি, বদলে যাচ্ছে তার অবস্থান। মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে একাধিকবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। এদিন গণমাধ্যমের সামনে তিনি প্রথমে তাদের প্যানেল থেকে জেতা নিজেরটাসহ দুটি পদ বাদে বাকি ২৩টিতে পুনর্নির্বাচন দাবি করেন এবং ঢাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি ও পরাজিত ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোলাকুলি করে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিলে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। পরে সন্ধ্যায় বাম জোটগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর সব পদে ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানান নুর। এরই কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজে শপথ নেবেন বলে জানান।
এদিকে, টিএসসিতে বাম সংগঠনগুলোর নির্বাচন না মানা ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি চলতেই থাকে। তাদের সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকের পর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্ররা যে রকম আশা করেছিল, সে রকম নির্বাচন হয়নি। ছাত্রলীগ বাদে সবাই গতকাল ভোট বর্জন করেন। কারচুপি করেও আমাদের ঠেকাতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে চাই, যেহেতু আরও অনেক প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, আমরা তাদের দাবির সঙ্গে একমত। এ নির্বাচন পুনরায় হতে হবে এবং নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের পদ ত্যাগ করতে হবে। অন্যদের অধীনে আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।
এসময় তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীনরা যখন সুবিধাজনক মনে করে, আমাদের লাগে, তখন বুকে টেনে নেয়। আবার যখন মনে করে আমরা শত্রু, তখন মার দেয়। তার উদাহরণ আমরা গতকালও দেখেছি। রোকেয়া হলে ছাত্রলীগ নেত্রীরা আমাদের মেরেছে। গত ৩০ জুন তারা আমাকে মেরেছিল। আজকেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি টিএসসিতে এসেছি, কিন্তু আমাকে তারা ধাওয়া দিয়েছে। তাদের মুখে মধু অন্তরে বিষ। তাদের বিশ্বাস করাটা খুব টাফ। মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব অবাক হয়েছি। আমার যদি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকতো, তারা আমাকে ভিপি নির্বাচিত করতো না।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

Leave a Reply

Top