আকাশের মৃত্যু আকাশের ব্যর্থতা

চট্টগ্রামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিনিয়তই মুখরোচক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এই মৃত্যুতে প্ররোচনা প্রদান করায় অভিযুক্ত তার স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতু সম্প্রতি তার বিগত জীবনে প্রেমিকদের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন।

রিমান্ডে থাকা মিতু বলেন বিয়ের পরও একাধিক ছেলেবন্ধুর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার সকালে চান্দগাঁও থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। তিনদিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

জিজ্ঞাসাবাদে মিতু জানান, আমেরিকায় অবস্থানকালে উত্তম প্যাটেল নামে এক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে তিনি একাধিকবার অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছেন। এর আগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বয়ফ্রেন্ড ডা. মাহাবুবুল আলমের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন মিতু। তবে শোভন নামে চুয়েটের এক ছাত্রসহ একাধিক ছেলেবন্ধু থাকার কথা স্বীকার করলেও মিতু তাদের সঙ্গে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিন মিতু বিয়ের পর বিভিন্নজনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা জানালেও শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। শুক্রবার সকালে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম। জিজ্ঞাসাবাদে মিতু বিয়ের পর দু’জনের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হলেও এখন পর্যন্ত শুধু মিতুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক পাঁচ আসামির মধ্যে রয়েছেন- মিতুর বাবা আনিসুল হক চৌধুরী ও মিতুর বয়ফ্রেন্ড ডা. মাহাবুবুল আলম। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মিতুর মা শামীমা শেলী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং উত্তম প্যাটেল আমেরিকায় অবস্থান করছেন।

৭ বছরের প্রেমের সূত্র ধরে ৩ বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়। মাঝে-মধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশিরভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

বিয়ের পর একাধিক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা পছন্দ ছিল না আকাশের। তাদের বিয়ের কাবিননামা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। মিতুকে ডিভোর্স দিলে আইন অনুযায়ী দিতে হতো কাবিনের সব টাকা। মিতুর বেপরোয়া স্বভাব চরিত্র এবং চালচলন পছন্দ না হলেও আকাশ বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে মেনে নিয়েছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে নিজ শরীরে ইনজেকশান পুশ করে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ।

মৃত্যুর আগে তিনি ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে প্যাটেল, মাহাবুবসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ আনেন এবং তার আত্মহত্যার জন্য স্ত্রী দায়ী বলে উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমি বারবার বলেছি আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করো না, বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা, মিথ্যা বলো না। আমার ভালোবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ।’ সর্বশেষ স্ট্যাটাসে আকাশ লেখেন- ‘ভালো থেক, আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।’

এটা কোন সমাধান নয়। মিতুর দোষ যাই থাকুক না কেন। আকাশে নিজের জীবন শেষ করে ক্ষন্ত হননি, মিতুর জীবনও নানা ভাবে ঝুকির মাঝে ফেলে গেলেন। দু’জনই অপরাধী।

Leave a Reply

Top