ইন্টারন্যাসলাল চিলড়েন’স ফিল্ম রাজশাহীর ‘বুটপালিশ’

মোঃ হাফিজুর রহমান: আন্তর্জাতিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানারোমা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম সেকশন (কমপেটেটিভ) ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছে রাজশাহীর শাহারিয়ার চয়নের ‘বুট পালিশ’। ১২তম ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন’স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ প্যানারোমা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম সেকশন (কমপেটেটিভ) ক্যাটাগরিতে মনোনিত হয়েছে শাহারিয়ার চয়নের ‘বুট পালিশ’। আগামী ৬ মার্চ বিকাল ৪টায় ঢাকার শাহবাগস্থ কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান হলে এ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিকেন্দ্রীকরণ ও উত্তরবঙ্গে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে তোলা এবং এই শিল্প বিকশিত করার লক্ষ্যে আন্দোলন চলছে। রাজশাহীতে অবস্থিত প্রবীণ চলচ্চিত্র প্রেমীরা এ আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০১৩ সাল থেকে রাজশাহীতে এ আন্দোলকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে তাতে যুক্ত হয় একদল তরুণ। আন্দোলনরত এ তরুণদের একজন সহযোদ্ধা উদীয়মান তরুণ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহারিয়ার চয়ন। তিনি উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহীর চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে ধারাবাহিক ভাবেই একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চলেছেন।
সহানুভূতি, ফানুস, গন্তব্যহীন, বোধসহ বেশকিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের পর তিনি নির্মাণ করেন শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘বুট পালিশ’। এ চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যেই সপ্তদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৯ প্রদর্শিত হয়েছে। কলকাতার নন্দনে আগামী ১৮-৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ২য় সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯ এবং মুম্বাইয়ের নবম দাদা সাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯ ‘বুট পালিশ’ চলচ্চিত্রটি মনোনিত হয়েছে।
‘বুট পালিশ’ চলচ্চিত্রটির গল্প লিখেছেন নাহিদা সুলতানা শুচি। ড্রিম মেকিং প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, অভিনেত্রী সাবেরা ইয়াসমিন, জিহাদ খান, রফিক, চৌতি এবং শিশু শিল্পী আরিফ ও রোদ। রাজশাহীর বিভিন্ন মনোরম স্থানে চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ন করা হয়েছে।
১০ বছরের শিশু আরিফ। সে নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় ঘুড়ে ঘুড়ে মানুষের বুট পালিশ করে বেড়ায়। প্রতিদিনের ন্যায় সে তার কাজ করতে গিয়ে একদিন রাস্তায় একটা ছোট শিশুকে কুড়িয়ে পায়। এরপর সেই শিশুটিকে সে নিজের কাছে আগলে রাখে। শিশুটিকে নিয়ে নগরীর অলিগলিতে ঘুড়ে বেড়ায়। একসময় শিশুটিকে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠে। এতে আরিফ শিশুটিকে নিয়ে দ্বিধায় পড়ে। অন্য দিকে জিহাদ শিশুটিকে দেখে আরিফের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে অনেক ভেবে আরিফের বিষয়টি নিয়ে জিহাদ তার পরিবারে সঙ্গে আলাপ করে। কিন্তু জিহাদ তাতে পরিবারের সম্মতি পায় না। এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে ‘বুট পালিশ’ চলচ্চিত্রটির গল্প।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা শাহারিয়ার চয়ন চলচ্চিত্রটির সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধাচের চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। হঠাৎই এবার ইচ্ছে হলো শিশুদের নিয়ে একটা ব্যাতিক্রম ধর্মী কিছু করতে। সেই ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে এ শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘বুট পালিশ’ নির্মাণ করেছি।

Leave a Reply

Top