একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত বাহেজ !

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হতে পারছে না। সাধারণভাবে, বিষয়টা হতাশাজনক হলেও গত ২০ বছর যাবত বিষয়টা পরিক্ষিত ও দিনের আলোর মত পরিক্ষাক।

০১.
জোট সরকারের আমলে একটি বে-সরকারি সংস্থায় ৬,০০০ টাকা বেতনে ”কেরাণী” পদে থাকা একজনকে হাওয়া ভবনের ফোন কলের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার শিক্ষক হওয়ার তেমন কোন যোগ্যতা ছিল না। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে তিনিও তার দলীয় পরিচয় বদলান এবং ইতালি থেকে পিএইচডি ড্রিগ্রী কিনে আনেন। বর্তমানে তিনি একটি ইনিস্টিটিউটের অধ্যাপক ও ছাত্র-লীগের উপদেষ্টা।

০২.
ঘটনা ২০১২ সালের আগে বা পরে, ফিজিক্স বিভাগে প্রভাষক হিসাবে ১৭ জন আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে মেধাতালিকায় ১৭ তম সৌভাগ্যবান ব্যাক্তিটি বিশেষযোগ্যতা (ছাত্রলীগের পদ) থাকার কারনে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান।

০৩.
তিন বছর আগে দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের প্রতিবাদে/অপমানে ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি মেধাবী ছাত্র প্রতীক আত্যহত্য করে।

০৪. 
সম্প্রতি প্রতীকের মৃত্যুর পর তার আত্নাকে শান্তনা দিতে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া ছাত্রী ”তানিয়া আহমেদ” তার ”ক্ষমতাবলে শিক্ষক হওয়া স্যার, আপনাকেই বলছি “ -শিরোনামে যে প্রবন্ধ লিখেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই উত্তাপ আগামী সময়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে কোন গুনগত পরিবর্তন আনবে বলে এখনও আশাবাদী হতে পারছি না।

পুনশ্চঃ এটা একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত বাহেজ মাত্র। জীবিত বা মৃত কারো সাথে কোন চরিত্র মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতালিয় ব্যপার বলে গন্য হবে। জয় বাংলা।

ছবি: তানিয়া আহমেদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়া একজন ছাত্রী।

Leave a Reply

Top