কিমের সঙ্গে বৈঠক হ্যানয়ে !!

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ বৈঠকটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন বিয়েগান উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টানা তিনদিন ধরে বৈঠকের ‘অগ্রবর্তী’ বিষয়বস্তু নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এই ঘোষণা এলো বলে বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক টুইটে ঘোষণা করেন, ‘আমার প্রতিনিধি একটি ফলপ্রসূ আলোচনার পর এইমাত্র উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করেছেন। কিম জং-উনের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকের সময় ও তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। বৈঠকটি আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হবে।’

‘আমি কিমকে দেখার অপেক্ষায় থাকলাম এবং শান্তির জন্যই এই এগোনো’, যোগ করেন ট্রাম্প।

এর আগে গত মঙ্গলবার স্টেট অব দি ইউনিয়নের বার্ষিক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনামে আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে সমাজতান্ত্রিক দেশটির কোন শহরে এ বৈঠক হবে, তা তিনি তখন ঘোষণা করেননি।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন বিয়েগান বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিনদিন উত্তর কোরিয়ার উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বিয়েগানের সঙ্গে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের ‘অগ্রবর্তী বিষয়াদি’ নিয়ে আলোচনা করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম হায়ক চোল। ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে আগে মার্কিন দূত আবারও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন বলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরো বলেছে, বিয়েগান ও চোল ‘গত জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উনের মধ্যকার বৈঠকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার পরিবর্তিত সম্পর্কের রূপায়ণ এবং কোরীয় উপদ্বীপের স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া নির্মাণ’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।      

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-উনের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যস্থতায় এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার মিত্র দেশ চীন ভ্রমণ করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

গত ১৮ জানুয়ারি কিম জং-উনের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত কিম ইয়ং চোল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন। এই সফরটি ছিল পরমাণু কূটনীতিতে উত্তর কোরিয়ার প্রথম পদক্ষেপ। এ সময় চোল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আলোচক চোলের সাক্ষাতের পরই দুই শীর্ষ নেতার দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। সে সময় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফেব্রুয়ারির শেষে বৈঠকটি হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন।

Leave a Reply

Top