বাগমারায় সদ্য ভুমিষ্ট এক নারী শিশু উদ্ধার

রাজশাহী ব্যুরো, মোঃ হাফিজুর রহমান:
রাজশাহীর বাগমারায় যোগীপাড়া ইউনিয়নের নাগপাড়া গ্রাম থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সদ্য ভুমিষ্ট জীবিত এক নারী শিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী । ঘটনাটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলামকে অবহিত করলে তিনি শিশু সন্তানটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছেন বলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের নাগপাড়া গ্রামের আহাদ আলীর বাড়ির পার্শ্বে কান এক ব্যক্তি সদ্য ভুমিষ্ট নবজাতক নারী শিশুটিকে পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফেলে যায়। নবজাতকটির কান্না আব্দুল আহাদের ছেলে নজীর উদ্দীন শুনতে পান। তিনি বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে দেখতে পান পলিথিনের ব্যাগে মোড়ানো একটি নবজাতক কান্নাকাটি করছে। তিনি কাছে গিয়ে ব্যাগটি খোলে দেখেন সদ্য ভুমিষ্ট একটি নারী নবজাতক। তার নাড়ীটিও কাটা ছিলনা। তিনি সাথে সাথে বাড়ির লোকজনকে ডেকে তোলেন এবং নবজাতক শিশুটির নাড়ী কেটে দেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত লোক শিশুটিকে দেখ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। অনেকেই শিশুটিকে দত্ত্বক নেয়ার জন্য নজীর উদ্দীনের বাড়িতে ভিড় জম্য়া। আহাদের বাড়িতে দত্ত্বকদের ভিড় দেখে একই ইউনিয়নের ভটখালী এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে বাবুল খাঁ শিশুটিকে জোরপূর্বক তোলে নিয়ে চলে আসে। সে দত্ত্বকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার নেয়ার ধান্দা শুরু করে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঘটনারস্থলে যান এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিলেই নবজাতকটির নিরাপত্তার সুব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম জানান, নবজাতকটির চিকিৎসা শেষে তাকে বেবী হোমে রাখা হবে। নবজাতক শিশুটিকে তার নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে আদালতের নির্দেশক্রমে তাকে দত্ত্বক দেয়া যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Top