রোহিঙ্গা শিবিরে অন্যরকম ‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’

সাদা টি–শার্ট, কালো প্যান্ট এবং মাথায় সাদা ওড়না পরে হেঁটে টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে ঢুকলেন জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। কথা বললেন সেখানকার নারী–শিশুদের সঙ্গে। খোঁজখবর নিলেন তাদের ভালো–মন্দের।রোহিঙ্গাদের জন্য কী ধরনের মানবিক সহায়তা দরকার, তা মূল্যায়নের জন্য সোমবার কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ যান হলিউডের এই অভিনেত্রী।

সকালে ঢাকায় এসেই কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ যাত্রা করেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। আর কক্সবাজারে এসে চলে যান রোহিঙ্গা শিবিরে। দুপুরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছান। তিনি সেখানে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পালিয়ে আসা এবং নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। তিনি ওই শিবিরে তিন ঘণ্টা সময় কাটান। বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন।

আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয়দিনের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড বিখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ইনানীর হোটেল রয়েল টিউলিপ থেকে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে পৌঁছান।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সেখানকার শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। পরে কুতুপালং ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টান্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি একই ক্যাম্পে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ইউএনসিআর ব্র্যাক, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা করার কথা রয়েছে জোলির। এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার।

দুপুরে কুতুপালং ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এছাড়া বিকাল ৩টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে প্রেসব্রিফিংয়ে যোগ দেওয়ার রয়েছে। বিকেলে ক্যাম্প থেকে কক্সবাজার ফিরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা এ অভেনেত্রীর। কক্সবাজার সফর শেষ করে ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করারও পরিকল্পনা আছে তার।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সারাদিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে ব্যস্ত সময় পার করবেন বলে জানা যায়। তিনি ৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে ঢাকার যাবেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে ইউএনএইচসিআর কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে সেবিষয়ে আলোচনা হবে বলেও সূত্র জানায়।

ইউএনএইচসিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইউএনএইচসিআর কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন জোলি। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষের সমস্যা সমাধান কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে করা সম্ভব, সে বিষয়েও আলোচনা করবেন এই অভিনেত্রী।

এর আগে গত বছরের ২১ মে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী ও ইউনিসেফের বিশেষ দূত সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

Leave a Reply

Top