আগামী অর্থবছরের বাজেট চ্যালেঞ্জিং : সিপিডি

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) মতে, অস্বাভাবিক আমদানি প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে বেশকিছু চিড় ধরেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের বাজেট অর্থায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আজ রোববার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্থনৈতিক চিত্র নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব জানায় সিপিডি।

সিপিডির মতে, দেশে শোভন প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত আয় কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এর সঙ্গে রয়েছে আর্থিক খাতের উদ্বেগ। তবে সিপিডি বলছে, আর্থিক খাতে উদ্বেগ থাকলেও, রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হয়েছে বৈদেশিক খাত। রপ্তানি, রেমিটেন্স ও বিদেশি বিনিয়োগে সূচকের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও আমদানির অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ভারসাম্যহীন করে তুলছে অর্থনীতিকে। আমদানির নামে দেশের সম্পদ পাচার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি তুলে ধরে সিপিডি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘রেমিট্যান্স এবং এক্সপোর্ট বৃদ্ধি পেয়ে থাকে ১৭ দশমিক সাত এবং ছয় দশমিক চার শতাংশ। সেখানে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক পাঁচ শতাংশ। এ আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ যদি না করা হয় তাহলে আমাদের অর্থনীতি সম্বন্ধে বিকৃত চিত্র হবে, বৈদিশিক লেনদেন ঘাটতি বাড়তে থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের অন্য উপাত্ত এটা বলে যে টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।’

সামষ্টিক অর্থনীতির এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের বাজেট চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিশেষকরে বাজেট অর্থায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হচ্ছে তা বাস্তবসম্মত হচ্ছে না বলে দাবি সিপিডির।

সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মতো দেশে করপোরেট ট্যাক্স হ্রাস করলে বিনিয়োগ বাড়বে এ রকম কোনো কথা নেই। এটার সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো কীভাবে উন্নত করে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে সেখানে মনোযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি।’

বাজার ব্যবস্থাপনাতেও ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে সিপিডি বলছে, ভোক্তার উপরে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৪ শতাংশ এবং চিনির দাম বেড়েছে আড়াই গুণ।

Leave a Reply

Top