আশায় আশায় শেষ হচ্ছে হাজার হাজার খন্ডকালীন শিক্ষকের জীবন

এস,এম আজিজুল হক;
বড় বড় ও নামীদামী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত শিক্ষক স্বল্পতার কারনে শ্রেণিকক্ষে বিপুল পরিমান ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যথাযথ প্রচার প্রচারণা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার মত যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই বাছাই করে এই নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মতই এসব খন্ডকালীন শিক্ষকগণ পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত দায় দায়ীত্ব পালন করে থাকেন। ক্ষেত্র বিশেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চেয়ে অনেক বেশী দায়ীত্ব পালন করতে হয় এসব খন্ডকালীন শিক্ষকদের। বিভাগীয় প্রশিক্ষণ, পাবলিক পরীক্ষার পরিদর্শক হিসেবে দায়ীত্ব পালন, সবই করেন এ সব খন্ডকালীন শিক্ষকগণ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আত্মীকরণ বা অঙ্গিভুত হওয়ার বুক ভরা আশা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের দেয়া সামান্য ক’টি টাকার বিনিময়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর প্রানান্তক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এসব খন্ডকালীন শিক্ষক। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদ নামের প্রহসনের বলি হচ্ছেন অভিজ্ঞ ও মেধাবী এ সব খন্ডকালীন শিক্ষকগণ। এর উপর সম্প্রতি এসব ভাগ্যহত খন্ডকালীন শিক্ষকগনের ভাগ্যাকাশে দেখা দিয়েছে আর এক অশনী সংকেত। খন্ডকালীন শিক্ষকগনের ব্যাপারে কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিয়েই সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পাঁয়তাড়া হচ্ছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহে মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীদেরকে এক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আত্মিকরণ করে নেয়া হয়। কিন্তু অসহায় ও সম্মানিত এসব শিক্ষকগণ বছরের পর বছর শিক্ষকতা করার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু মাত্র জাতীয়করণের কারনে তাঁরা চাকুরী হারাবেন, তা কি করে হয়। আট দশ বছর শিক্ষকতা করেও কি তাঁরা ওই একটি মাত্র শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদের মত জ্ঞান অর্জণ করতে পারেননি? পক্ষান্তরে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি কারো অজানা নয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনাকেই নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয় বা বিবেচিত হয়। আর এই কালো পথে হাজার হাজার অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষকতার মত মহান পেশায় ঠুকে পড়ছে। এদেও আবার অনেকেই নাকি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পাশের কেনা সনদে নিয়োগ বৈতরণী পার হচ্ছে। তবে এসব বিষয় এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। নিয়োগ বানিজ্যের কালো পথ হয়তো বর্তমান সময়ের দাবী। কিন্ত যে খন্ডকালীন শিক্ষকটি সামান্য পয়সায় তাঁর জীবনের সবটা সময় পার করলেন এই শিক্ষাদান কার্যক্রমে, তাঁর প্রতি এত অবহেলা কেন? সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কথিত জনবান্ধব সরকারই বা এত উদাশীন কেন? সামান্য পয়সায় শিক্ষাদান করেন বলে খন্ডকালীন শিক্ষকগণ এতই অস্পৃশ্য? এসব হতভাগ্য খন্ডকালীন শিক্ষকদের ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কি ভাবে দায় এবং দায়ীত্ব এড়িয়ে যাবেন?

Leave a Reply

Top