জিপিএ-৫ বিক্রেতা অদ্বৈতের রাজেন্দ্র কলেজে যোগদান!

জিপিএ-৫ বিক্রি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অদ্বৈত কুমার রায়কে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে বদলি করা হয়েছে এমন খবরে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে কলেজটির শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ খোঁদ ফরিদপুরবাসী। দুর্নীতিগ্রস্থ কোনো কর্মকর্তাকে এমন একটি সুনামধন্য কলেজের শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারবেন না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বদলী আদেশ নিয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে যোগ দিয়েছেন। আর এ খবর জানার পর তোলপাড় চলছে ফরিদপুরে। কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও ফরিদপুরের সাধারণ জনতা ও অভিভাবকগণ ফরিদপুরের একটি স্বনামধন্য কলেজে যোগদানের খবরে তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গত দু’দিন ধরে এ নিয়ে চলছে তুমুল নিন্দাবাদ। ফরিদপুরের শিক্ষার মান যাতে বিনষ্ট না হয় সেজন্য অবিলম্বে তারা রাজেন্দ্র কলেজ থেকে অদ্বৈত কুমার রায়কে বদলীর দাবি তুলেছেন।

এব্যাপারে রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশাররফ আলী সাংবাদিকদের জানান, তিনি কলেজের শিক্ষার্থী ও ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি জেনেছেন। তবে এখানে তার কোন হাত নেই। সিদ্ধান্তটা মন্ত্রণালয়ের। বিষয়টি তিনি ডিজি মহোদয়কে জানিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান বলেন, এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের সিদ্ধান্ত । তাই আপাতত এব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও বদলির আদেশ হয়। এর দীর্ঘদিন পর গত সোমবার তিনি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। সূত্র জানায়, ফরিদপুরে এসেই তিনি সরকারী দলের প্রভাবশালীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ঢাকা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে থাকাকালে অদ্বৈত কুমার রায় একটি সিন্ডিকেট করে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে জিপিএ-৫ সহ ভিন্ন ভিন্ন সার্টিফিকেট বিক্রিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয় দেশের একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে। তাতে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অদ্বৈত রায় সহ চক্রের সদস্যদের কিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জিপিএ-৫ সার্টিফিকেট পাওয়া যায় তার প্রমাণ বেরিয়ে আসে। তবে জিপিএ-৫ বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে অদ্বৈত কুমার এসব ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ রাজেন্দ্র কলেজে অদ্বৈত কুমার রায়ের বদলীর আদেশে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন একজন দুর্নীতিবাজকে চাকরী থেকে কেনো বরখাস্ত করা হয়নি সেটিই বুঝতে পারছি না। তাকে কোনভাবেই রাজেন্দ্র কলেজে রাখা যাবে না। তাতে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক বিঘ্নিত হবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি কলেজ শাখায় পদায়ন পান সরকারি কলেজের শিক্ষক অদ্বৈত কুমার রায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের অযোগ্য শিক্ষককেও যোগ্য মর্মে প্রতিবেদন দেন অদ্বৈত। আবার সমিতি, ফোরাম ও নো বিসিএস নো ক্যাডার স্লোগানধারীদের সুনজরে থাকতে সরকারের কলেজ জাতীয়করণ ও আত্তীকরণ বিরোধী সভা-সমাবেশ ও মামলা-মোকদ্দমারও বড় ডোনার তিনি।

২০১৩ সালের ২৩ জুন শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ঢাকা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক পদে প্রেষণে যোগ দেন অদ্বৈত কুমার। এই যোগদানের পেছনে কলকাঠী নাড়েন শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক একজন এপিএস ও তৎকালীন একজন যুগ্ম-সচিব। ২০১৭ সালে বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পদ বাগান অদ্বৈত।

ঝিনাইদহ জেলা শহরের কেসি কলেজ পাড়ার বাসিন্দা অদ্বৈত কুমার রায় এলাকায় পরিতোষ চিটার নামে পরিচিত।

Leave a Reply

Top