বিশ্বকাপ এসে গেছে !!

একটা স্থির দৃষ্টি নিয়ে ঠিক লুঝনিকি স্টেডিয়ামের বাইরে ওভারকোট পরে দাঁড়িয়ে আছেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। রুশ ইতিহাসের মহান এই নেতার পাথরের ভাস্কর্যটা যেন ক্ষণ গুনছে বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরুর। রাশিয়াবাসীসহ পুরো বিশ্বের সে অপেক্ষা অবশ্য  ফুরোচ্ছে। রাশিয়ার মাঠে বিশ্বকাপ গড়াতে আর বাকি মাত্র কয়েক ঘণ্টা!

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ঠিক দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে খামোভনিকি শহর। সে শহরের পাশ ঘেঁষেই বয়ে গেছে মস্কোভা নদী। ভীষণ শান্ত এই নদীকে দেখে কিন্তু বোঝার উপায় নেই একটা সময় কীভাবে মস্কোভার স্রোতে উপচে পড়ত দুকূল! জোয়ার-ভাটায় নদীর চারপাশ হতো প্লাবিত। আর সেই প্লাবিত ভূমি পরিচিত লুঝনিকি নামে। মাঠটির নামকরণও করা হয়েছে সেই লুঝনিকি থেকেই।

রাশিয়ার জাতীয় মাঠ এই লুঝনিকি স্টেডিয়ামেই আগামীকাল থেকে বসছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দামামা বাজতে যাচ্ছে পৃথিবীর সেরা টুর্নামেন্ট ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র ২১তম আসরের। লুঝনিকি তাঁর বিশাল সবুজ বক্ষে চোখটা রাখতে হাঁক দিয়ে যাচ্ছে পুরো পৃথিবীবাসীকে।

স্বাগতিক রাশিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে। সৌদি আরবও উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার জন্য করছে গা গরম, সেটা নিশ্চিত। রাত ৯টায় শুরুর ম্যাচটা শুরু হবে। অবশ্য দুই দলকেই সময় দিতে হবে একটু। চোখ ধাঁধানো এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে যে!

উদ্বোধনী ম্যাচের দুই দলের সঙ্গে ৫০০ জন নৃত্যশিল্পী ও জিমন্যাস্টও নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে। আধা ঘণ্টার অনুষ্ঠানটিতে হাজার আলোর রোশনাইয়ের সঙ্গে দেখা যাবে তাঁদের মনোমুগ্ধকর নৈপুণ্য ও শৈলীও।

মস্কোতে যখন সূর্যটা পশ্চিমের আকাশে লুকোবে বাড়ি ফেরার তাড়ায় বাংলাদেশে সময় তখন রাত ৮টা বেজে ৩০ মিনিট। গোধূলির রঙে রঙিন হয়ে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের, সঙ্গে পুরো বিশ্ব ঘোর লাগা চোখে লেনিনের দেশে আটকে যাবে পুরো এক মাসের জন্য।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা মাতানোর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এক ‘ত্রয়ীর’ উপরে। এই তিনের একজনকে সবাই চেনে। গান শুনবেন আর রবি উইলিয়ামসকে চিনবেন না, তা কি হয়? ইংলিশ এই গায়কের সঙ্গে রুশ প্রতিনিধি হিসেবে কণ্ঠে লুঝনিকিকে কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ করে রাখবেন আইদা গারিফুলিনা। রাশিয়ার বিশ্বকাপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফিফা কেন যেন সঙ্গীতকেই দিচ্ছে প্রাধান্য। অপেরার মূর্ছনায় বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে তাই আরো থাকছেন ‘অপেরার রাজা’ নামে পরিচিত প্লাসিদো ডমিঙ্গো। আছেন পেরুভিয়ান শিল্পী হুয়ান দিয়েগো ফ্লোরেজ।

ফুটবলের আয়োজন আর কোন ফুটবলার থাকবেন না উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, সে কি হয়? বিশ্বের সব ফুটবলারদের পক্ষে থেকে লুঝনিকিতে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রোনালদো। না, হালের ক্রিস্টিয়ানো নন, তিনি ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপের জয়ের নায়ক রোনালদো ‘লিমা’!

রাশিয়ায় মাঠে বসেই যারা দেখবেন বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান তাঁরা। দুর্ভাগ্য অবশ্য চোখ রাঙাবে না বাকিদেরও, টেলিভিশনের পর্দা তো আছেই। বাংলাদেশ তো আছেই সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখানোর স্বত্ব কিনে নিয়ে সনি পিকচার্স নেটওয়ার্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তো থাকছেই বিশ্বকাপের  ৬৪টি ম্যাচও দেখা যাবে সনি টেন টুতে।

আজ যেমন সবাই অপেক্ষা ব্যস্ত বিশ্বকাপ শুরুর। মাঠে গড়িয়ে বিশ্বকাপ কিন্তু ব্যস্ত হয়ে যাবে ইতি টানতে। ৩০ দিনের প্রতিযোগিতায় আবেগের মোহনায় এক হয়ে যাবে হাসি আর কান্না। স্বপ্নকে ছুঁয়ে দিয়ে কেউ ভাসবেন আনন্দে। অন্যদিকে, স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় বেদনায় নীল হবেন কেউ। সে তোলা থাক সময়ের খাতায়। আপাতত কান পাতা যাক রাশিয়ায়। ওই যে মস্কো গেয়ে যাচ্ছে বিশ্বকাপের আগমনী গান!

Leave a Reply

Top