মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল : ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন করতে হবে

ঈদের দিন থেকে বিগত কয়েক দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মটরসাইকেল আরোহী।

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না; বরং পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অনেক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা নিয়মিতই উচ্চারিত হয়। বড় দুর্ঘটনায় অনেক বেশি প্রাণহানি একসঙ্গে ঘটলে যখন হৈচৈ পড়ে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন নড়েচড়ে বসে। তারপর আবার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসে। অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক তো আছেই, ভুয়া চালকেরও অভাব নেই। ফিটনেসবিহীন যান চলে যত্রতত্র। সব ভুয়া চালক ও জরাজীর্ণ গাড়িগুলোকে সড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কিছু মাত্রায় কমে আসত। আমরা কাজটি করতে পারছি না।

সড়ক-মহাসড়কে শৃৎঙ্খলা রক্ষার জন্যই ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। সড়কে দায়িত্বরত সব পুলিশ সদস্য শতভাগ সৎ থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন বা ড্রাইভারের এমন আস্ফাালন আমাদের দেখতে হতো না। কিছু কিছু ট্রাফিক পুলিশের কাছে সড়কে ডিউটি পালনের কাজটি হচ্ছে আখের গোছানোর বড় সুযোগ। মামলা দেওয়ার বদলে তারা গোপনে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেয়। এই গোপন অর্থ লেনদেনের দৃশ্যটিও যে অনেক সময় আশপাশের যাত্রীদের কাছে প্রকাশ্য হয়ে যায়—দাতা ও গ্রহীতা কেউ তা কেয়ার করে না।

আমাদের চালকদেরও যেন এক ধরনের বেপরোয়া মানসিকতায় পেয়ে বসেছে। শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে বহনকারী রিকশাকে যে গাড়িটি চাপা দিল তার ফিটনেস ছিল? চালকের যথেষ্ট মানসিক-শারীরিক সুস্থতা ছিল? গত দুই দিনে আরো যেসব স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনায় চালক কি যথেষ্ট সচেতন কিংবা সক্ষম ছিল?

এমনিতেই ট্রাফিক আইন আমাদের প্রয়োজনীয় শক্তিশালী নয়, যেটুকু আছে তার পূর্ণ প্রয়োগও নেই। ব্যবহারের ওপরই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের পুলিশ অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিলে কিংবা দুর্ঘটনার পরও মামলায় অপরাধীর সাজা না হলে একজন চালক বেপরোয়া হবেই।

পৃথিবীতে যেসব দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে বাংলাদেশের স্থান অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। এ ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই। ট্রাফিক পুলিশকে শতভাগ দায়িত্বশীল ও সৎ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা কি খুব কঠিন কাজ? ঝুঁকিপূর্ণ সব চালক ও গাড়ি উচ্ছেদ করা গেলে, সড়কে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত হলে, আইনের প্রয়োগ কঠোর হলে সড়কে নৈরাজ্য কমে আসবে।

Leave a Reply

Top