পাবনায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন দুই শতাধিক ঘরবাড়ি !

পাবনা সদর, সুজানগর ও ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটসহ দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিনে এ বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন এলাকাবাসী। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া, মানিকহাট ও নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের হরিরামপুর, সিংহনগর, নারুহাটি, গুপিনপুর, ফকিতপুর, বিলমাদিয়া, সিন্দুরপুর, কন্দর্পপুর, ইন্দ্রজিতপুর, কাদিরপুর ও চররাজপুর গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী মানিকহাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রাইপুর বাজার ও রাইপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা যায়।

এ ছাড়া পাবনা সদর উপজেলার খাসচর ধোকরাকোল, ভাড়ারা, দোগাছি, আশুতোষপুর, চরসর্দিরাজপুর, রানীনগর এবং ঈশ্বরদী উপজেলার সারা ইউনিয়ন ও পাকশী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। বাড়িঘর, ফসলি জমিসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব শত শত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তার আশপাশের এলাকায়। কিছু কিছু পরিবার অন্য গ্রামে সামান্য জমি কিনে কোনোমতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। নদীভাঙায় সর্বস্ব হারানো সুজানগর উপজেলার সিংহনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মকবুল মৃধা ও হরিরামপুরের জহির শেখ আরেক গ্রামে  অভিবাসী হয়ে মানবেতর  জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

সুজানগর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মার প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে সিসি ব্লক দেবে যাওয়ায় রাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ডিসি সড়কের কিছু অংশ ভাঙনের মুখে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে স্কুলের বাকি অংশ ও সড়ক ভেঙে নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। এলাকার সচেতন মহল এই ভাঙনের জন্য অবৈধ ও অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, সুজানগরে সরকারিভাবে কোনো বালুমহাল না থাকলেও এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এতে করে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ বলেন, নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (হাইড্রোলজি বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, নদীর তলদেশ ভরে যাওয়ায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারই ফলে নদীর পাড় ভাঙছে। এর ভেতরেই ভাঙন রোধে করণীয় কিছু পরিকল্পনার প্রস্তাব সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জহুরুল ইসলাম।

নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিয়নের বরখাপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বটগাছ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গাছটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Top