থাইল্যান্ডে পর্যটকবাহী নৌযান ডুবে নিহত বেড়ে ৩৩

থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপে পর্যটকবাহী নৌযান ডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই চীনের নাগরিক। ডুবে যাওয়া নৌযানটির নাম ফিনিক্স, যাতে ৯৩ জন যাত্রী, পর্যটক ও ১১ জন ক্রু ও ভ্রমণ-গাইড ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌযানটি ডুবে যায়। ফুকেটের প্রাদেশিক গভর্নর নোরাফাত প্লদথং বলেন, ২৩ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার গভর্নর নোরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ আবহাওয়ায় কাজ করলে ডুবুরিদের জন্য বিপদ হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাঁচ মিটার উচ্চতার ঢেউ তৈরি হয়, যার ফলে ফিনিক্স উল্টে ডুবে যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঘটনার দিনই মাছ ধরা নৌকার সাহায্যে ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং আরেক নারীকে ডুবে যাওয়া নৌযানটি থেকে কয়েক মাইল দূরে পাওয়া যায়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৩৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

থাই নৌবাহিনী জানায়, ডুবে যাওয়া নৌযানটিতে শুক্রবার তল্লাশি করতে গিয়ে ডুবুরিরা বেশ কিছু মৃতদেহ পায়। উদ্ধার কাজে হেলিকপ্টারও অংশ নিয়েছে। বেঁচে যাওয়া পর্যটক উ জুন (২৮) জানান, ফিনিক্সে স্ত্রী লং হাইনিংয়ের সঙ্গে তিনি মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করছিলেন। এক পর্যায়ে নৌযানটি কাত হয়ে ডুবে যায়। তিনি বলেন, ‘বের হওয়ার সময় আকাশ পরিষ্কার ছিল। আমরা ধারণাই করতে পারিনি আবহাওয়া এত দ্রুত বদলে যাবে।’ হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেন, থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে তার দেশ থেকে টাস্কফোর্স পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, থাইল্যান্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। আহতদের চিকিৎসায় তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’ কর্মকর্তারা বলছেন, গত বুধবার আবহাওয়া সতর্কতায় বলা হয়েছিল দিনের বেলায় পর্যটক নিয়ে কোনো নৌযান যাতে না বের হয়। কিন্তু কয়েকটি নৌযান সে সতর্কতায় কান দেয়নি। এর মধ্যে ফিনিক্স নৌযানটিও রয়েছে।

আবহাওয়া সতর্কতার পরও কেন কয়েকটি নৌযান তা অমান্য করল তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এদিকে, প্রায় একই সময় আরেক নৌযান ডুবির ঘটনায় ৩৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। এদের বেশির ভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

Leave a Reply

Top