নোয়াখালীবাসীর বিমানবন্দরের স্বপ্ন পূরণের পথে

বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর বিমানবন্দরের স্বপ্ন পূরণের পথে! তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি নোয়াখালী বিমানবন্দর নির্মাণের দ্বার খুলতে যাচ্ছে। আজ রবিবার প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জমি পরিদর্শনে আসছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে তাঁদের স্বাগত জানাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা শতাধিক তোরণ নির্মাণসহ দুই হাজার মোটরসাইকেল ও গাড়ির শোভাযাত্রার ব্যবস্থা করেছেন।

জানা গেছে, নোয়াখালী জেলা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াপদা বাজারে সন্নিকটে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশাল জমি প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে কৃষি বিভাগের কীটনাশক ওষুধ ছিটানোর জন্য ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকার প্রায় ৪০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে এখানে ছোট বিমান অবতরণের একটি রানওয়ে নির্মাণ করে।

পরবর্তীতে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন থেকে নোয়াখালীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সর্বস্তরের মানুষের দাবি ছিল ওই পরিত্যক্ত রানওয়েকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে আরো জমি অধিগ্রহণ করে বৃহত্তর নোয়াখালীর জন্য একটি বিমানবন্দর করার। বিগত সময়ে সরকারপ্রধানদের কাছে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী বিমানবন্দরের জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও তা কেউ কার্যকর করতে এগিয়ে আসেননি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান আবু বেলাল মো. শফিউল হক প্রমুখ নোয়াখালীতে বিমানবন্দর করার অনুরোধ জানান।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর নোয়াখালীর আরেক সন্তান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল নোয়াখালীতে বিমানবন্দর নির্মাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

আজ রবিবার নোয়াখালীর প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় সার্ভে করতে মন্ত্রী নিজেই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান, বিমান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমরান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন।

সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ইতোমধ্যে সিভিল এভিয়েশন নোয়াখালীর প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকা সরেজমিন এবং আকাশপথে পরিদর্শন করেছে। এর সক্ষমতা যাচাইয়ে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সার্ভে কমিটি বিমানবন্দর নির্মাণে কতটুকু জায়গা প্রয়োজন, অবকাঠামোসহ সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করবে।

জানতে চাইলে নোয়াখালী চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের স্বপ্নের বিমানবন্দরের কাজ শুরু হবে।’

সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নোয়াখালী বিমানবন্দর এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব।’

এদিকে বিমানবন্দর সংলগ্ন ওয়াপদা বাজারে বিমানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। আজ রবিবার বিকেল ৩টায় ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল।

Leave a Reply

Top