সবার আগে প্রয়োজন খালেদা জিয়ার মুক্তি – ফখরুল

নির্বাচনকালীন নতুন একটি সহায়ক সরকার ব্যবস্থার কথা বলে আসছিল বিএনপি। বছর দু-এক ধরে তা নিয়ে দলটি কথা বললেও এখনো ঘোষণা হয়নি তার রূপরেখা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সেটি প্রস্তুত করে রেখেছেন তাঁরা। তবে সবার আগে দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি চায় তাঁদের দল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র ঠিক সেভাবে ফলপ্রসূ হবে না। নির্বাচনও ফলপ্রসূ হবে না। সে জন্য তাঁর মুক্তিই সবার আগে প্রয়োজন।’ এনটিভিকে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন আর তা থেকে অর্জনের হিসাব-নিকাশের পথ পাড়ি দেওয়া বিএনপির সামনে এখন একাদশ সংসদ নির্বাচন। তবে এই সাড়ে চার বছরে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে অবস্থান পাল্টায়নি সরকার এমনকি বিএনপিও। যদিও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার পদ্ধতির একটি রূপরেখা দেওয়ার কথা বলছে বিএনপি, বলছে সংলাপের কথাও, দাবির তালিকায় যোগ হয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তিও। এর কোনোটিতেই সাড়া নেই সরকারের। এমন বাস্তবতায় কী ভাবছে দেশের অন্যতম বড় এই রাজনৈতিক দলটি? এসব বিষয়ে এনটিভির সঙ্গে কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত সংলাপ ছিল ২০০৬ সালে। নবম সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে সৃষ্ট সংকটে সংলাপে বসেছিলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি মহাসচিব ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হয়েছিল দশম সংসদ নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকো ফার্নান্দেজের মধ্যস্থতায়। দুটিই ছিল ফলশূন্য সংলাপ। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও আলোচনায় আসছে সংলাপের বিষয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংলাপ আমরা চেয়েছি প্রথম থেকেই। তাঁরা সেটাকে নাকচ করেছেন। সংলাপ আমরা চেয়েছি একটি মাত্র কারণে যে গণতন্ত্রের ভাষাই হচ্ছে সংলাপ।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কথাগুলো গণতন্ত্রের পক্ষের কথা না। এটা স্বৈরতন্ত্র, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনেরই কথাবার্তা। আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছি, আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করছি, এ দেশের জনগণের অধিকার রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম করছি, আমরা অবশ্যই সার্বক্ষণিকভাবে সংলাপের কথা বলব। সংলাপের মধ্য দিয়েই এ বিষয়গুলোর সমাধান সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে প্রায়োরিটির প্রশ্ন তো একটাই। খালেদা জিয়া রেপ্রিজেন্ট করেন গণতন্ত্রকে। খালেদা জিয়া রেপ্রিজেন্ট করেন এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে। সুতরাং তাঁর মুক্তি ছাড়া এখানে গণতন্ত্র ঠিক সেভাবে ফলপ্রসূ হবে না। নির্বাচনও ফলপ্রসূ হবে না। সে জন্য তাঁর মুক্তিই সবার আগে প্রয়োজন।’

সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যথাসময়ে এটা উপস্থাপন করা হবে। যখনই আমরা মনে করব যে উপযুক্ত সময়, তখন সেটা আমরা জনগণের সামনে উপস্থাপন করব।’

Leave a Reply

Top